একসময় নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় ব্যবহারকারীদের প্রথম নজর থাকত এতে মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে কিনা। কম খরচে মেমোরি বাড়ানোর এই সুযোগটি ব্যবহারকারীদের কাছে ছিল অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু বর্তমানে প্রিমিয়াম থেকে শুরু করে বাজেট ফোনেও মাইক্রোএসডি কার্ড স্লটের বিলুপ্তি ঘটেছে। হঠাৎ করে কেন স্মার্টফোন নির্মাতারা এই সুবিধাটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল? এটি কি কেবল প্রযুক্তিগত উন্নতির ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে ফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর বিরাট ব্যবসায়িক কৌশল? এই পরিবর্তন কেবল আমাদের ব্যবহারের ধরনই বদলায়নি, বরং স্মার্টফোন শিল্পকে দিয়েছে এক নতুন মোড়।
মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট সরিয়ে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণটি মেমোরি মেকিং বা প্রযুক্তিগত নয়, বরং আর্থিক। একটি ১২৮ জিবি এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজের ফোনের মধ্যে উৎপাদনের খরচ খুব বেশি আলাদা নয়, কিন্তু বিক্রয়মূল্যের তফাত হয় আকাশপাতাল। মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলে গ্রাহকরা কম দামি ভ্যারিয়েন্ট কিনে সহজেই স্টোরেজ বাড়িয়ে নিতে পারতেন।
মেমোরি কার্ডের সুবিধা বন্ধ করে স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহকদের বাধ্য করছে বেশি দামি ফোনের মডেল অথবা বার্ষিক ক্লাউড স্টোরেজ প্ল্যান কিনতে।
এছাড়া অ্যাপল, গুগল বা স্যামসাংয়ের মতো টেক জায়ান্টরা এখন নিজস্ব ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস বিক্রি করছে। প্রতি মাসে বা বছরে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করা এখন এক বিশাল আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। মেমোরি কার্ড স্লট বাদ পড়ার ফলে এই সাবস্ক্রিপশন মডেল বিশ্বজুড়ে অভাবনীয় গতি পেয়েছে।
স্মার্টফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ (UFS স্টোরেজ) যেভাবে দ্রুতগতির হয়েছে, সাধারণ মাইক্রোএসডি কার্ড তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারে না। এখনকার ফোনে হাই-রেজোলিউশন ভিডিও রেকর্ড করা এবং ভারী গেম খেলার জন্য অত্যন্ত দ্রুতগতির রিড-রাইট স্পিড প্রয়োজন। slow মেমোরি কার্ড ব্যবহারে ফোন হ্যাং করা বা ধীরগতির হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যার দায় সরাসরি পড়ে ব্র্যান্ডের ওপর।
মাইক্রোএসডি কার্ড স্লটের বিলুপ্তি আমাদের ফোন ব্যবহারের অভ্যাসে স্থায়ী পরিবর্তন এনেছে। স্ট্রিমিং সার্ভিস ও ফাইভ-জি ইন্টারনেটের যুগে এখন ফিজিক্যাল মেমোরির চেয়ে অনলাইন ডাটা অ্যাক্সেস অনেক সহজ। তবে সত্যি বলতে, ইন্টারনেটের অভাব কিংবা দ্রুত ফাইল ট্রান্সফারের জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীরা এখনও এই মেমোরি কার্ডের অভাব অনুভব করেন। বাণিজ্যিক লাভ এবং প্রযুক্তির বিবর্তনের এই খেলায় বাহ্যিক স্টোরেজের ফিরে আসার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
আপনি কি এখনও আপনার স্মার্টফোনে মেমোরি কার্ড স্লটের অভাব অনুভব করেন, নাকি ক্লাউড স্টোরেজেই আপনি অভ্যস্ত? নিচে কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান!









